প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু (ইয়েও হান-কু)। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সইয়ের অপেক্ষায় থাকা কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ), বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
সোমবার (৩ আগস্ট) বেলা আড়াইটায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতে সিইপিএ চুক্তির অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, চুক্তিটি কার্যকর হলে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে অনেক দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক কোরিয়ান কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে খেলনা, ইলেকট্রনিকস, টেলিযোগাযোগ, অটোমোবাইল, সেমিকন্ডাক্টর এবং জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিশ্বমানের দক্ষতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের রয়েছে সম্ভাবনাময় দক্ষ জনশক্তি। দক্ষিণ কোরিয়া চাইলে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা দিয়ে তাদের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে কাজে লাগাতে পারে। পাশাপাশি কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিনিয়োগ করলে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।
বৈঠকে কোরিয়ান কোম্পানিগুলোকে নিয়ে বাংলাদেশে একটি বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। এছাড়া দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
জবাবে ইয়ো হান-কু বলেন, বাংলাদেশের উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: