এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ঠেকাতে বিশেষ নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় এগোতে না পারা এসব শিক্ষার্থীকে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মমুখী করার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রয়োজনে নতুন উদ্যোগ বা ব্যবসা শুরু করতে তাঁদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও ভাবছে সরকার।
রোববার বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল কোর্সে যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। প্রয়োজন হলে ব্যবসা বা নতুন উদ্যোগ শুরু করার জন্য আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হতে পারে।
মাহদী আমিন বলেন, এতদিন এসব শিক্ষার্থীকে নিয়ে আলাদাভাবে কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি। এবার তাঁদের জন্য একটি বিশেষ নীতি তৈরি করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো, পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার পর যেন কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষা বা কর্মজীবন থেকে ঝরে না পড়ে।
এদিকে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার কমে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। অপরদিকে ফেল করেছেন ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন শিক্ষার্থী।
পরীক্ষার ফলাফল প্রসঙ্গে মাহদী আমিন দাবি করেন, এবার কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচলিত একাডেমিক শিক্ষার বাইরে কারিগরি প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: