[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

হুমকি মোকাবিলায় দেশেই ড্রোন তৈরি করা হবে: প্রধনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:১৪

সংগৃহিত ছবি

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান উড্ডয়ন বন্ধ করে পৃথক রানওয়ে বা স্বতন্ত্র বিমানঘাঁটি নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একই সঙ্গে দেশের আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে আধুনিকায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং সাইবার হামলাসহ নতুন বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলায় দেশীয়ভাবে ড্রোন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান।

সংরক্ষিত নারী আসন-৪১-এর সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী দেশের সমগ্র আকাশসীমার নিরাপত্তা ও আকাশ প্রতিরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ঢাকা ও অন্যান্য শহরের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সর্বদা প্রস্তুত রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, পৃথক বিমানঘাঁটি ও রানওয়ে নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। বাংলাদেশের সীমিত ভূমি ও বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কেবল প্রশিক্ষণের জন্য পৃথক রানওয়ে নির্মাণের পরিবর্তে বিদ্যমান সুবিধাগুলোর যথাযথ ব্যবহারকেই সরকার অধিক বাস্তবসম্মত মনে করছে।

চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়লেও আবহাওয়া পূর্বাভাসে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে—এমন বক্তব্য সঠিক নয়।

তিনি জানান, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় বর্তমানে ৫ থেকে ১০ দিনের আগাম পূর্বাভাস প্রদান করছে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়, ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাতসহ বিভিন্ন দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তাও দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও নির্ভুল করতে পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, উন্নত ডেটা বিশ্লেষণ এবং দক্ষ জনবল তৈরির কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান রয়েছে।

অন্যদিকে, সংরক্ষিত নারী আসন-২-এর সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা এবং সংরক্ষিত নারী আসন-১০-এর সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির পৃথক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন এবং বেসামরিক কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণের আইনি ভিত্তি তুলে ধরেন।

শিরীন সুলতানের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয়ভাবে ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রে নজরদারি জোরদার করতেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অসামরিক কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণের সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনকালীন দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ‘In Aid to the Civil Power’ নির্দেশিকা অনুযায়ী দুর্যোগ ও ক্রান্তিকালে অসামরিক প্রশাসনকে সশস্ত্র বাহিনী সরাসরি সহায়তা করে থাকে।

এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) ১২৯ ধারা অনুযায়ী অসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর