বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিয়ে বিস্তৃত মতামত প্রকাশ করেছেন। পোস্টটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জাহিদুল ইসলাম জানান, শহীদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব তাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। তার উল্লেখিত তিনটি বিশেষ কারণ হলো—
১. দেশের রাজনীতিতে বিভাজন কমিয়ে ঐক্যের ভিত্তি স্থাপন
২. আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান
৩. পার্বত্য অঞ্চলে দূরদর্শী কৌশলগত পদক্ষেপ
বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে তিনি বলেন, শৈশব থেকে তিনি খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখে বড় হয়েছেন। তার মতে, বেগম জিয়া সবসময় নম্র, শান্ত এবং দেশের স্বার্থে আপসহীন নেতৃত্বের উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, জুলুম-নির্যাতনের মুখেও বেগম জিয়া কখনো কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করেননি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে দলমতনির্বিশেষে মানুষের দোয়া প্রমাণ করে যে তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এক নেত্রী।
তারেক রহমানকে নিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি তারেককে স্মার্ট ও সম্ভাবনাময় নেতা হিসেবে দেখেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির রাজনৈতিক আচরণ জিয়া ও খালেদা জিয়ার আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। ছাত্রদল–ছাত্রশিবির সম্পর্ক নিয়ে ‘অদৃশ্য দূরত্ব’ তৈরির অভিযোগও করেন তিনি।
জামায়াত-বিএনপি সম্পর্ক প্রসঙ্গে জাহিদুল বলেন, জাতীয় স্বার্থে জামায়াত ছাড় দিয়ে সম্পর্ক অটুট রাখার চেষ্টা করলেও বিএনপির পক্ষ থেকে অনেক সময় তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ দেখা গেছে। বিশেষত ’৭১–এর ইস্যু নিয়ে বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক কৌশলকে তিনি ‘চেতনার ব্যবসা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
২০১৫ সালের কারাজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি ছাত্রশিবির, জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের কথা স্মরণ করেন। তবে ৩৬ জুলাই–পরবর্তী বিএনপির রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে হতাশার কথাও জানান।
তারেক রহমানের প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তারেক যেন কারও প্রভাবমুক্ত থেকে পিতা-মাতার আদর্শ ধরে রাজনীতি করেন। তাহলে দেশপ্রেমিক শক্তি তাকে সহযোগিতা করবে।
শেষে তিনি দুইটি ভবিষ্যদ্বাণীমূলক মন্তব্য রাখেন—
১. জিয়া ও খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ না করলে বিএনপি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারবে না।
২. কথিত বামমুখী ‘বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর’ প্রভাব কোনো দল বা দেশের উপকারে আসে না; তারা বিভাজন ও ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইসলামবিদ্বেষ ছড়ায়।
নিজের পোস্টে তিনি আহ্বান জানান—ক্ষমতা কখনো স্থায়ী নয়, তবে নেতৃত্বের আচরণ ও আদর্শ মানুষকে চিরস্থায়ী ভালোবাসা বা ঘৃণার জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেয়। তিনি দেশের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: