[email protected] সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
২৯ পৌষ ১৪৩২

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: জরিপে বিএনপি–জামায়াতের ভোটের ব্যবধান মাত্র ১.১ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:০৩

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে করা এক প্রাক-নির্বাচনী জনমত জরিপে দেখা গেছে, দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান হতে পারে মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ। জরিপ অনুযায়ী, ৩৪.৭ শতাংশ সম্ভাব্য ভোট নিয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছে বিএনপি, আর জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য সমর্থন ৩৩.৬ শতাংশ।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ‘প্রি-ইলেকশন পালস: অ্যান ইন-ডেপথ অ্যানালাইসিস অব দ্য বাংলাদেশি ইলেক্টোরেট’ শীর্ষক এই জরিপটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে প্রজেকশন বিডি, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি (আইআইএলডি), জাগরণ ফাউন্ডেশন ও ন্যারাটিভ।

জরিপটি ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এতে দেশের ৬৪ জেলার ২৯৫টি সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত ২২ হাজার ১৭৪ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশ নেন। ভৌগোলিক, শহর-গ্রাম ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্য নিশ্চিত করতে স্ট্রাটিফায়েড স্যাম্পলিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় এবং ২০২২ সালের জাতীয় আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী পোস্ট-স্ট্রাটিফিকেশন ওয়েটিং প্রয়োগ করা হয়েছে।

জরিপের প্রাথমিক ফলাফলে ভোটের সম্ভাব্য বণ্টন দাঁড়িয়েছে— বিএনপি ৩৪.৭ শতাংশ, জামায়াতে ইসলামি ৩৩.৬ শতাংশ। সিদ্ধান্তহীন ভোটার ১৭ শতাংশ। অন্য দলগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি) পেতে পারে ৭.১ শতাংশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩.১ শতাংশ এবং অন্যান্য দল ৪.৫ শতাংশ ভোট।

তবে মেশিন লার্নিং ভিত্তিক প্রজেকশনে সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের সম্ভাব্য ঝোঁক যুক্ত করলে বিএনপির সমর্থন ৪৩.২ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামির সমর্থন ৪০.৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

দলভিত্তিক সমর্থনের কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির ক্ষেত্রে সমর্থকদের ৭২.১ শতাংশ দলটির অতীত অভিজ্ঞতা ও রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে ৩০–৪৪ বছর (৩৮.৪%) এবং ৪৫–৫৯ বছর (৩৭.৪%) বয়সী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির সমর্থন তুলনামূলক বেশি। পেশাভিত্তিকভাবে কৃষক (৪২.৬%) ও শ্রমিকদের (৪০.৬%) মধ্যে দলটির অবস্থান শক্ত।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামির সমর্থনের প্রধান ভিত্তি হিসেবে উঠে এসেছে ‘কম দুর্নীতিগ্রস্ত’ ভাবমূর্তি (৪৪.৮%) এবং সততার রাজনীতি (৪০.৭%)। দলটির সবচেয়ে শক্ত সমর্থন তরুণ ভোটারদের মধ্যে— ১৮–২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে জামায়াতের সমর্থন ৩৩.৬ শতাংশ। উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যেও দলটি এগিয়ে; স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের মধ্যে জামায়াতের সমর্থন ৩৭.৪ শতাংশ, যা অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি। ডিজিটাল ও সামাজিক মাধ্যমে তরুণ ও শিক্ষিত ভোটারদের সম্পৃক্ত করায় দলটি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপিকে সমর্থনের ক্ষেত্রে ৩৬.৭ শতাংশ ভোটার ‘জুলাই বিপ্লবে ভূমিকা’-কে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের ১৭ শতাংশ এখনও সিদ্ধান্তহীন। এদের মধ্যে একটি বড় অংশ জানিয়েছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না, আবার অনেকে মতামত জানাতে অনিচ্ছুক। এই সিদ্ধান্তহীন ভোটাররাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।

জরিপের সামগ্রিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনটি মূলত দুটি ধারার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিতে পারে— একদিকে বিএনপির অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাভিত্তিক রাজনীতি, অন্যদিকে জামায়াতের সততা ও ন্যায়বিচারকেন্দ্রিক রাজনীতি। একই সঙ্গে ভোটারদের বড় একটি অংশ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের বিচার নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।

আলোকিত গৌড়/এম.আর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর