বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে আর কোনো মেডিকেল কলেজবিহীন জেলা থাকবে না। আল্লাহ দায়িত্ব দিলে ৬৪ জেলার প্রতিটিতেই মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে দশ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণা জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “উত্তরবঙ্গ গরিব নয়, গরিব করে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার জন্য উত্তরবঙ্গের মানুষকে রাজধানীর দিকে ছুটতে হয়। সবার সে সামর্থ্য নেই। পথে অনেক মানুষ মৃত্যুবরণ করেন—এ অবস্থা আমরা দেখতে চাই না।” তিনি আরও বলেন, “বলবেন, টাকা কোথায় পাবেন? যে ২৮ লাখ কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে, জনগণের সেই টাকা আদায় করে আনা হবে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, উত্তরবঙ্গকে সৎ মায়ের সন্তানের মতো অবহেলা করা হয়েছে। অথচ এই অঞ্চল দেশের খাদ্য ও পুষ্টির বড় যোগানদাতা। তিনি বলেন, “উত্তরবঙ্গ থেকে আমরা আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চাই না। গোটা উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী বানাতে চাই। বন্ধ চিনিকল চালু করে শ্রমিকদের আবার কাজে ফিরিয়ে আনব।”
জামায়াত আমীর বলেন, “আমাদের কাছে কোনো বিশেষ কার্ড নেই—আপনারাই আমাদের কার্ড। আপনাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও দোয়ায় আমরা একটি বেকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই।” তিনি বলেন, উন্নয়ন যেন টেকনাফে সীমাবদ্ধ না থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত পৌঁছে—সে ব্যবস্থা করা হবে।
উত্তরবঙ্গের নদী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও করতোয়ার মতো নদীগুলো আজ মরুভূমির মতো হয়ে গেছে। নদীগুলোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, পাঁচ বছর পরপর কিছু রাজনৈতিক শক্তি ভোটের সময় জনগণের কাছে আসে, কিন্তু বাকি সময় খোঁজ পাওয়া যায় না। “এই রাজনীতি আমরা ঘৃণা করি,” বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আপনারা যদি মূল্যবান ভোট দিয়ে দশ দলীয় জোটকে সংসদে পাঠান এবং সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে শুধু নদীর জীবনই ফিরবে না—মানুষের জীবনেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে।” তিনি দাবি করেন, পাঁচ বছরই যথেষ্ট উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে দেওয়ার জন্য।
তিনি আরও বলেন, শহীদ পরিবার, জুলাই যোদ্ধা ও একাত্তরের বীরদের কাছে তারা ঋণী। সরকার গঠনের সুযোগ পেলে তাদের প্রতি দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেন তিনি।
ভোটাধিকার প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, “দীর্ঘদিন মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এখন কেউ যদি ভোট ডাকাতি করতে আসে, তাহলে তা রুখে দিতে হবে।” বৈষম্য, অবিচার, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনের দশ দল মনোনীত প্রার্থী সারজিস আলম, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: