[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২২ মাঘ ১৪৩২

জামায়াত এখনো বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছায়নি: সালাম

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:০৯

সংগৃহিত ছবি

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আচরণ ততই অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবদুস সালাম। তিনি বলেন, কিছু সাংবাদিক ও একটি মহল পরিকল্পিতভাবে জামায়াতকে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। তবে বাস্তবতা হলো—জামায়াত এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইসিবি চত্বরে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন তিনি।

জামায়াতকে ‘পরীক্ষিত বেইমান’ আখ্যা দিয়ে আবদুস সালাম বলেন, পাকিস্তান সৃষ্টির সময় তারা পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছে, আবার বাংলাদেশ সৃষ্টির সময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে। শুধু বিরোধিতা নয়, তারা বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে অস্ত্রও ধরেছিল।

তিনি বলেন, জামায়াতের বর্তমান আচরণই প্রমাণ করে তাদের সামনে আর বেশি সময় নেই। কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বুঝতে পেরেই তারা এখন অস্থির হয়ে উঠেছে।

এ সময় জামায়াত নেতাদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, এখন ধৈর্য ধরার সময়। ১২ তারিখ পর্যন্ত ধৈর্য ধরে থাকতে হবে। নাহলে ১২ তারিখের পর শুয়ে পড়তে হতে পারে। বেশি অধৈর্য হলে বইসা (বসে) যান।

ঢাকা সেনানিবাসে সেনা সদস্যদের সঙ্গে জামায়াত প্রার্থীর বাকবিতণ্ডার ঘটনাকে ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এর মধ্য দিয়ে জামায়াতের প্রকৃত চেহারা উন্মোচিত হয়েছে। তারা এখনো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে গ্রহণ করতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিল, এখনও তারা পাকিস্তানি ভাবধারায় রয়েছে।

সেনাবাহিনী সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ওই বক্তব্যে অকারণে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম টেনে আনা হয়েছে। জামায়াতের প্রার্থীর চেয়ে তারেক রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত হতে তারা বেশি আগ্রহী বলেই মনে হয়।

আবদুস সালাম আরও বলেন, তারেক রহমান কোনো একক দলের নেতা নন, তিনি বাংলাদেশের নেতা। একসময় এই দেশের নেতা ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, পরে ছিলেন খালেদা জিয়া। আর এখন দেশের মানুষ যাকে গ্রহণ করেছে, তিনি তারেক রহমান।

তারেক রহমানের বিষয়ে কথা বলার সময় সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় জামায়াতের আমির সম্পর্কেও সম্মান রেখেই কথা বলে। নারীদের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থানের সমালোচনাও সম্মানের সঙ্গেই করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইনশাল্লাহ তারেক রহমান আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হবেন। বাংলাদেশকে বাঁচাতে এবং রক্ষা করতে তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নেই।

জামায়াত দেশকে আফগানিস্তান বা ফিলিস্তিনের মতো পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে চায় অভিযোগ করে তিনি বলেন, তারা নারীর সম্মানের কথা বললেও একটি আসনেও নারী প্রার্থী দেয়নি। বরং নারীদের ঘরের ভেতরে রাখতে চায়। অথচ দেশের অর্ধেক ভোটার নারী। নারীরা অতীতেও বিএনপিকে ভোট দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নারীদের চাকরি ও সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বিএনপিই একমাত্র বিকল্প উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশে আইয়ামে জাহেলিয়া ফিরে আসবে।

নির্বাচনের দিন ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, কোনোভাবেই কারচুপি হতে দেওয়া যাবে না। বিএনপি কোনো গোপন দল নয়; এটি একটি প্রকাশ্য ও গণতান্ত্রিক দল।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটে একটি নির্বাচিত সরকার গঠিত হলে দেশ স্থিতিশীল হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে পারবে বলে মন্তব্য করেন।

গণসংযোগকালে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, তাবিথ আউয়াল, স্থানীয় নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসী।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর