[email protected] বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৮ মাঘ ১৪৩২

যেই তিনটি মোবাইল অ্যাপের কারণে দাঁড়িপাল্লার দিকে ঝুঁকছে সচেতন মহল ও যুবকরা

জাহিদুর রহমান

প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৪৪

ছবি: সংগৃহীত

প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক বাংলাদেশের বাস্তবতায় রাজনীতির ভাষাও ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঘোষিত তিনটি মোবাইল অ্যাপভিত্তিক উদ্যোগ নিয়ে যুবসমাজের মধ্যে কৌতূহল ও আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে।

বিশেষ করে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী ও প্রযুক্তি-সচেতন যুবসমাজ এসব উদ্যোগকে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ ও জবাবদিহির নতুন ধারণা হিসেবে দেখছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আলোচনায় বিষয়টি উঠে আসছে।

জামায়াত ঘোষিত ‘আমার টাকা আমার হিসাব’ অ্যাপের ধারণা অনুযায়ী, রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের তথ্য সাধারণ নাগরিকরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহজেই দেখতে পারবেন। তরুণদের একটি অংশ মনে করছেন, এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা এখন ব্যাংকিং থেকে শুরু করে পড়াশোনা—সবকিছুই অ্যাপের মাধ্যমে করি। যদি সরকারের টাকা পয়সার হিসাব নাগরিকদের সামনে উন্মুক্ত থাকে, তাহলে সেটা নতুন প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।”

‘পাহারাদার’ অ্যাপটিও তরুণ-তরুণীসহ নারী পুরুষ সকলের আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে। পাহারাদার অ্যাপের দেওয়া ফিচার অনুযায়ী, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঘুষ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস কিংবা সামাজিক অপরাধ সম্পর্কে নাগরিকরা পরিচয় গোপন রেখে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

একজন তরুণ পেশাজীবী বলেন,
“অনেক সময় অন্যায় দেখেও কিছু করার সুযোগ থাকে না। প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা থাকলে মানুষ অন্তত নিজের কথা বলতে পারবে—এই ভাবনাটাই তরুণদের আকর্ষণ করছে।”

তরুণদের আগ্রহের আরেকটি বড় কারণ ‘দক্ষতা’ অ্যাপ। জামায়াতের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে।

চাকরির বাজারে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা অনেক তরুণ মনে করছেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে তা ইতিবাচক আলোচনা তৈরি করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের এই আগ্রহ আপাতত ধারণা ও প্রতিশ্রুতির পর্যায়ে রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো যখন তরুণদের ভাষায় প্রযুক্তি, অ্যাপ, স্বচ্ছতা এই শব্দগুলো ব্যবহার করছে, তখন বোঝা যায় যে যুবসমাজ এখন রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”

সব মিলিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিশ্রুতির কারণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নতুনভাবে জানতে ও বুঝতে আগ্রহ দেখাচ্ছে তরুণদের একটি অংশ। যা চলমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

আলোকিত গৌড়/এম.আর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর