[email protected] বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার দাবি, বিএনপির ভূমিকাও বিশ্লেষণের আহ্বান নাহিদ ইসলামের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, ২২:১৬

সংগৃহিত ছবি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনায় বিএনপির ভূমিকা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। সে সময় দেশের জনগণের একটি বড় অংশ বিপদগ্রস্ত থাকলেও বিরোধীদল হিসেবে দলটির আরও সাহসী ও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ ভবনে আয়োজিত ‘শাপলা গণহত্যা: বিচারহীনতার এক যুগ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীতে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এনসিপি সমর্থিত সংগঠন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স।

বিএনপির ভূমিকা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, হেফাজতের ৫ মে আন্দোলনে বিএনপি ছিল বলে দাবি করা হলেও সে সময় দলটির প্রকৃত ভূমিকা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলো অনেক সময় আলেম-ওলামা ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে। এমনকি গুলির মুখে মাদরাসার ছাত্রদের ঠেলে দেওয়ার দায়ও রাজনৈতিক দলগুলোর এড়ানোর সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের আড়ালে বিরোধী মত দমন এবং ইসলামবিদ্বেষ উসকে দেওয়া হয়েছিল। সে সময় হেফাজতের আন্দোলনকে ‘তাণ্ডব’ হিসেবে প্রচার করা হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের সন্ত্রাসী বা জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। দাড়ি-টুপি পরিহিত মানুষ ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গি হিসেবে চিত্রিত করার প্রবণতা ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় পরবর্তীতে জুলাই গণহত্যার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি সমর্থন বা অসমর্থনের বিষয়টি আলাদা, তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সব গোষ্ঠীর মত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা। নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মানুষের ওপর গুলি চালানো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় সীমান্তে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও সীমান্ত হত্যার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে এবং মানুষ হত্যা করে বন্ধুত্ব হয় না। মানুষ একদিন ওই বেড়া উপড়ে ফেলবে।” তিনি সীমান্ত হত্যা বন্ধ, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভা থেকে শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার দাবিতে চার দফা দাবি উত্থাপন করে এনসিপি সমর্থিত জাতীয় ওলামা অ্যালায়েন্স। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় আনা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন এবং আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহার।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, কুড়িগ্রাম-২ আসনের এমপি ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ অন্যরা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদী। এছাড়া বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলাম ও খেলাফত মজলিস-এর নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, গবেষক মুসা আল হাফিজ এবং ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর