রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে দলটি দাবি করেছে, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় কার্যকর না করে সরকার জাতীয় অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার।
তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে জাতির সামনে বড় প্রশ্ন হলো—সহস্রাধিক শহীদের আত্মত্যাগ এবং হাজারো আহতের ত্যাগে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের যে স্বপ্ন ছিল, দেশ সেই পথে এগোচ্ছে নাকি আবারও পুরোনো ধারায় ফিরে যাচ্ছে।
মিয়া গোলাম পারওয়ার অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন দল রাষ্ট্র সংস্কার, সংবিধান সংস্কার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নির্বাচনী অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে। তিনি বলেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার নবম দফায় রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের পরিবর্তে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে তার ব্যত্যয় ঘটেছে।
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), মহেশখালী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোসহ বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের চুক্তিতে শামসুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তার দাবি, অবসরের পর শামসুল আলম বিএনপির একটি সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফলে তাকে নির্বাচন কমিশনের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়ায় কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। তাই রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হলে নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হওয়া নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হতে পারে।
মিয়া গোলাম পারওয়ার অবিলম্বে ওই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেন, তা না হলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের বিষয়েও রাজনৈতিক দলগুলোকে নতুন করে ভাবতে হতে পারে।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় প্রশাসক ও কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা বৈষম্যহীন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকারের পরিপন্থী বলে দাবি করেন তিনি।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: