গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ সাত দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ধারাবাহিক লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনা করেছে বিএনপি। দলটির নেতাদের মতে, কোনো দাবি থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা উচিত। কিন্তু সে পথে না গিয়ে অপপ্রচারের মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে ১১ দলীয় ঐক্য।
আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনায় লংমার্চ করার কথা রয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যের। কর্মসূচির শুরু থেকেই এর সমালোচনা করে আসছে বিএনপি।
এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমানে যারা বিরোধী দলে রয়েছেন, তাঁদের আচরণ যদি ফ্যাসিস্টদের মতো হয়, তাহলে তা দুঃখজনক। মানুষ বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করবে না। তাঁর মতে, সংসদে আলোচনা করেই এসব বিষয়ে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।
রিজভী আরও বলেন, গণতন্ত্রের সামগ্রিক বিকাশ ও চর্চা অত্যন্ত জরুরি। গণতন্ত্রের অনুশীলনের মধ্য দিয়েই এর বিকাশ ঘটবে। তাই বিরোধী দলের সেই পথ অনুসরণ করা উচিত।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সমন্বয় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে মনে করছে বিএনপি। এমন পরিস্থিতিতে কয়েক মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের রাজপথের আন্দোলন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দলটির এই নেতা।
তিনি বলেন, কোনো কর্মসূচি যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয় এবং একটি নির্বাচিত সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য আয়োজন করা হয়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। সরকার দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় সরকারের প্রতিও সবার দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।
রিজভীর ভাষ্য, সরকারকে বেকায়দায় ফেলার উদ্দেশ্যে কোনো কর্মসূচি নেওয়া হলে তা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
দেশের চলমান সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলকে অযথা রাজপথ উত্তপ্ত না করে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তাঁর মতে, বিরোধী দলের এ ধরনের কর্মসূচি ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ঐকমত্য নষ্ট করতে পারে।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: