[email protected] মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

ইরান যুদ্ধ বন্ধে চীন-পাকিস্তানের ‘৫ দফা শান্তি প্রস্তাব’

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৭

সংগৃহিত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে যৌথভাবে পাঁচ দফা শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা করেছে চীন ও পাকিস্তান।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে এই প্রস্তাবনা তুলে ধরেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে এই সফরের আয়োজন করা হয়। সংঘাত পঞ্চম সপ্তাহে গড়ালেও যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় বেইজিংয়ের সমর্থন আদায়ে সক্রিয় হয়েছে ইসলামাবাদ।

পাঁচ দফা প্রস্তাব

চীন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিসহ আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবগুলো হলো—

১. অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ
সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং সংঘাত নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর দাবি করা হয়েছে।

২. দ্রুত শান্তি আলোচনা শুরু
ইরানসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার ওপর জোর দিয়ে শক্তি প্রয়োগ বা হুমকি ছাড়া দ্রুত সংলাপ শুরুর আহ্বান জানানো হয়েছে।

৩. বেসামরিক স্থাপনার সুরক্ষা
বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো—বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি স্থাপনা, পানি শোধনাগার ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।

৪. নৌপথ নিরাপদ রাখা
হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

৫. জাতিসংঘ সনদের ভিত্তিতে সমাধান
আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের আলোকে একটি টেকসই শান্তি কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান এই সংকটে নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। অন্যদিকে, এতদিন দূরত্ব বজায় রাখা চীনও এই উদ্যোগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব আরও জোরালো করতে আগ্রহী।

তবে প্রস্তাবগুলো যুদ্ধরত পক্ষ—যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান—কতটা গ্রহণ করবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, সিজিটিএন

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর