ইসলামি হিজরি বর্ষপঞ্জির দশম মাস শাওয়াল। রমজানের পরপরই আসা এই মাসটির রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। এটি হজের তিন মাসের অন্যতম এবং কোরআনে বর্ণিত চারটি হারাম মাসের মধ্যেও অন্তর্ভুক্ত।
হাদিসে শাওয়াল মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখার বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যারা রমজানের ফরজ রোজা পালনের পর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখবে, তারা যেন সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব পাবে (সহিহ মুসলিম)।
তবে ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগে শাওয়াল মাসে বিয়ে করা নিয়ে নানা কুসংস্কার প্রচলিত ছিল। সে সময় মানুষ মনে করত, এ মাসে বিয়ে করলে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি নেমে আসে। ইসলাম এ ধরনের ভ্রান্ত ধারণা সম্পূর্ণরূপে বাতিল করে দেয়।
এ বিষয়ে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) উল্লেখ করেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাকে শাওয়াল মাসেই বিয়ে করেন এবং এ মাসেই বাসর সম্পন্ন হয় (সহিহ মুসলিম: ১৪২৩)। এর মাধ্যমে তিনি শাওয়ালে বিয়ে সংক্রান্ত কুসংস্কারের প্রতিবাদ জানান।
কিছু মানুষ এ ঘটনার ভিত্তিতে শাওয়াল মাসে বিয়ে করাকে সুন্নত বা মুস্তাহাব মনে করলেও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। ইসলামী শিক্ষায় দেখা যায়, নবীজি (সা.) বিভিন্ন মাসেই বিয়ে করেছেন এবং সাহাবিরাও শাওয়াল মাসকে বিয়ের জন্য আলাদা কোনো গুরুত্ব দেননি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শাওয়াল মাসে বিয়ে করাকে যেমন অশুভ মনে করার কোনো সুযোগ নেই, তেমনি এটিকে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ বা সুন্নত হিসেবেও বিবেচনা করার ভিত্তি নেই। তবে কেউ চাইলে নবীজি (সা.) ও আয়েশা (রা.)-এর স্মরণে এ মাসে বিয়ে করতে পারেন।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: