মানুষ সাধারণত কোরআন তিলাওয়াতের সময় গল্প, বিধান বা উপদেশ খোঁজে। কিন্তু খুব কম মানুষই কোরআনের আয়নায় নিজেকে খোঁজার চেষ্টা করে। অথচ কোরআন শুধু পড়ার কিতাব নয়, এটি আত্মপরিচয়েরও আয়না—যেখানে মানুষ নিজের অবস্থান দেখতে পারে।
এমনই এক অনন্য আত্মজিজ্ঞাসার ঘটনা রয়েছে প্রখ্যাত তাবেঈ আহনাফ ইবনে কায়স (রহ.)-এর জীবনে। একদিন তিনি বসে ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তাঁর পাশ দিয়ে যেতে যেতে সুরা আম্বিয়ার ১০ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করেন, যেখানে বলা হয়েছে—আল্লাহ এমন এক কিতাব নাজিল করেছেন, যাতে মানুষের উল্লেখ রয়েছে।
আয়াতটি শুনে গভীরভাবে আলোড়িত হন আহনাফ ইবনে কায়স (রহ.)। তিনি বলেন, কোরআন নিয়ে আসো, যাতে আমি দেখতে পারি এতে আমার উল্লেখ কোথায় আছে এবং আমি কোন শ্রেণির মানুষ।
এরপর তাঁর সামনে কোরআন আনা হলে তিনি আয়াতগুলো পড়তে শুরু করেন। প্রথমে তিনি নেককার বান্দাদের গুণাবলি সংবলিত আয়াতগুলো পড়েন—যারা রাত জেগে ইবাদত করে, ভোরে ক্ষমা প্রার্থনা করে, অভাবীদের হক আদায় করে, সুখে-দুঃখে ব্যয় করে, ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে।
এসব আয়াত পড়ার পর তিনি গভীর অনুশোচনায় বলেন, “হে আল্লাহ! আপনি আমার অবস্থা সবচেয়ে ভালো জানেন। কিন্তু আমি নিজেকে এদের কারো মধ্যেই খুঁজে পাচ্ছি না।”
এরপর তিনি কাফের ও গাফেলদের বর্ণনাসংবলিত আয়াত পড়েন, যেখানে অহংকার, আখিরাত অস্বীকার এবং নামাজ-যাকাত থেকে বিমুখ মানুষের কথা বলা হয়েছে। এসব আয়াত পড়ে তিনি ভীত হয়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চান এবং বলেন, “আমি যেন এদের অন্তর্ভুক্ত না হই।”
অবশেষে তিনি সুরা তাওবার ১০২ নম্বর আয়াতে পৌঁছান, যেখানে বলা হয়েছে—কিছু মানুষ নিজেদের পাপ স্বীকার করেছে, তারা ভালো কাজের সঙ্গে মন্দ কাজও মিশিয়েছে, আশা করা যায় আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করবেন।
এই আয়াত পড়েই উজ্জ্বল হয়ে ওঠে তাঁর মুখমণ্ডল। আশাবাদী কণ্ঠে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, এটাই তো আমি! এটাই আমার অবস্থা!”
ইসলামি সূত্রে বর্ণিত এই ঘটনা আমাদের শেখায়, কোরআন পড়া শুধু তিলাওয়াত নয়; বরং প্রতিটি আয়াতে নিজেকে যাচাই করা, নিজের ভুল স্বীকার করা এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার পথ খুঁজে নেওয়াই প্রকৃত উপলব্ধি। প্রশ্ন তাই আজও রয়ে গেছে—কোরআনে আমি কোথায়?
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: