[email protected] শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

ইসলামে শ্রম ও সহকর্মীর মর্যাদা অপরিহার্য

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ মে ২০২৬, ১১:৩১

ফাইল ছবি

ইসলামে শ্রমের মর্যাদা ও যোগ্য সহকর্মীর গুরুত্ব অপরিসীম—এমনটাই তুলে ধরা হয়েছে এক বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধে। এতে কোরআন ও হাদিসের আলোকে কর্মনিষ্ঠা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং শ্রমিকের অধিকার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, মহান আল্লাহর নির্দেশনায় হজরত মুসা (আ.) তাঁর ভাই হজরত হারুন (আ.)-কে সহযোগী হিসেবে চেয়েছিলেন, যা থেকে বোঝা যায়—কর্মক্ষেত্রে যোগ্য সহকর্মী ও পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে কোরআনে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত কর্মীর প্রশংসাও করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, নবী-রাসুলদের জীবন ছিল শ্রমনির্ভর। কর্মবিমুখতা বা ভোগবাদিতা নয়, বরং কঠোর পরিশ্রমই ছিল তাদের আদর্শ। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সম্মানিত করেছেন এবং জীবিকার জন্য সক্ষমতা দিয়েছেন—তাই মানুষের উচিত কর্মে আত্মনিয়োগ করা।

মানুষের স্বভাবগত বৈচিত্র্যের প্রসঙ্গে প্রবন্ধে চার ধরনের মানুষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে—যারা নিজে ও অন্যের উপকার করে, যারা নিজের স্বার্থে অন্যকে ব্যবহার করে, যারা শুধু নিজের উপকার করে এবং যারা কারও উপকারই করে না। এর মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

শ্রমিকদের অধিকার প্রসঙ্গে হাদিস উদ্ধৃত করে বলা হয়, শ্রমিকদের প্রতি সদাচরণ এবং তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক দ্রুত প্রদান করা ইসলামের নির্দেশ। শ্রমিককে সাধ্যাতীত কাজ না দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রবন্ধে বর্তমান সমাজে শ্রমজীবী মানুষের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ভবনধস, অগ্নিকাণ্ড, কম মজুরি, শ্রমের যথাযথ মূল্য না পাওয়া—এসব সমস্যা এখনও বিদ্যমান। চা-শ্রমিক, দিনমজুর, বর্গাচাষি থেকে শুরু করে নানা পেশার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া নারীর শ্রমের স্বীকৃতির অভাব, শিশুশ্রম, এবং বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রমের অবমূল্যায়নের বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। জীবিকার তাগিদে অনেকে দেশত্যাগ বা ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য সহকর্মীদের মধ্যে সুসম্পর্ক, সহানুভূতি, ধৈর্য ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলা হয়—ইসলাম সৎকাজে পারস্পরিক সহায়তার নির্দেশ দিয়েছে এবং অন্যের ক্ষতি থেকে বিরত থাকতে বলেছে।

সবশেষে বলা হয়, পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই একটি শান্তিপূর্ণ ও সফল কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, গাজীপুর

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর