পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা উম্মতে মুহাম্মাদিকে “উত্তম জাতি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং এই মর্যাদা বজায় রাখতে সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজে নিষেধ ও আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাস রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
সুরা আলে ইমরানের ১১০ নম্বর আয়াতের আলোকে লেখক বলেন, উম্মতে মুহাম্মাদির এই শ্রেষ্ঠত্ব কোনো মানবীয় সিদ্ধান্তে নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকেই নির্ধারিত। তবে এ মর্যাদা ধরে রাখতে হলে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া অপরিহার্য।
তিনি উল্লেখ করেন, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ ব্যক্তি ও সংঘবদ্ধ— দুইভাবেই হতে পারে। প্রতিটি মুমিনের নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা দায়িত্ব। পাশাপাশি সমাজে একটি সংঘবদ্ধ শক্তিও থাকা প্রয়োজন, যারা মানুষকে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করবে এবং অন্যায় থেকে বিরত রাখবে।
সুরা আলে ইমরানের আরেকটি আয়াত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহ মুমিনদের এমন একটি দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন, যারা সমাজে ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে। মুফাসসিরদের মতে, এটি সাধারণ নির্দেশ নয়; বরং ফরজ দায়িত্ব।
লেখায় আরও বলা হয়, পূর্ববর্তী জাতিগুলোর ধ্বংসের অন্যতম কারণ ছিল অন্যায় দেখেও নীরব থাকা। সুরা মায়েদাহর ৭৮-৭৯ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে লেখক বলেন, বনি ইসরাইলের মধ্যে যারা অন্যায় কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখেনি, তারা নবীদের অভিশাপের শিকার হয়েছিল।
তিনি বলেন, সমাজে অন্যায়-অনাচার বেড়ে গেলে কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা দিয়ে নৈতিক অবক্ষয় ঠেকানো সম্ভব নয়। মানুষ নামাজ-রোজা করলেও যদি দুর্নীতি, জুলুম ও অনৈতিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান না নেয়, তবে সমাজ ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়।
লেখক বিশেষভাবে আলেম সমাজের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের তুলনায় আলেমদের দায়িত্ব অনেক বেশি। কারণ মানুষ তাদের অনুসরণ করে। আলেমরা যদি অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে কথা না বলেন, তাহলে সমাজের ভেতরে নৈতিক অবক্ষয় আরও গভীর হয়।
প্রবন্ধে সতর্ক করে বলা হয়, জ্ঞানী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নীরবতা সমাজকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়। এর ফলে তরুণ সমাজ বিপথে যায়, রাজনীতিতে অসততা বাড়ে এবং ব্যবসায় প্রতারণা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
সবশেষে লেখক সমাজে ন্যায়, মানবিকতা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: