আখিরাতের সফলতার জন্য দুনিয়ায় নেক আমল সঞ্চয় এবং আল্লাহর ইবাদতে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের উদ্দেশে বলেছেন, “হে ঈমানদাররা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। প্রত্যেক ব্যক্তি যেন ভেবে দেখে, সে আগামী দিনের (আখিরাতের) জন্য কী অগ্রিম পাঠিয়েছে।” (সুরা আল-হাশর: ১৮)
ইসলামী শিক্ষায় মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, “আমি জিন ও মানুষকে শুধুমাত্র আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।” (সুরা আয-যারিয়াত: ৫৬)
তাফসিরবিদদের মতে, এই আয়াতের মূল শিক্ষা হলো—মানুষ যেন একমাত্র আল্লাহর তাওহিদ প্রতিষ্ঠা করে এবং তাঁর আনুগত্যে জীবন পরিচালনা করে। যারা এ পথে অবিচল থাকে, তাদের জন্য দুনিয়ায় প্রশান্তি এবং আখিরাতে জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয়ই যারা বলে, ‘আমাদের রব আল্লাহ’, তারপর তারা তার ওপর অবিচল থাকে—তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না।” (সুরা আল-আহকাফ: ১৩-১৪)
ইসলামী আলোচনায় আরও বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত ইবাদতের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও মানবতার কল্যাণে এমন কাজ রেখে যাওয়া উচিত, যার সওয়াব মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে। সদকা, উত্তম চরিত্র, পিতা-মাতার সেবা, পরিবারে দায়িত্ব পালন, মানুষের উপকার, সত্যবাদিতা, অঙ্গীকার রক্ষা, সম্পর্ক বজায় রাখা এবং সমাজকল্যাণমূলক কাজকে আখিরাতের পুঁজি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রত্যেক মুসলিমকে নিয়মিত আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেকে মূল্যায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। নিজেকে প্রশ্ন করতে বলা হয়েছে—নিয়মিত নামাজ আদায়, আল্লাহর জিকির, তাওবা-ইস্তিগফার, নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, দান-সদকা, উত্তম আচরণ এবং মানুষের অধিকার আদায়ে কতটা আন্তরিক হওয়া যাচ্ছে।
আলোচনায় বলা হয়, এসব নেক আমলের প্রতিদান মানুষ কিয়ামতের দিন নিজেই প্রত্যক্ষ করবে। তাই আখিরাতের সফলতা অর্জনে প্রতিটি মুসলিমের উচিত নিজের আমল পর্যালোচনা করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে জীবন পরিচালনার সর্বাত্মক চেষ্টা করা।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: