[email protected] রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নির্ঘুম রাতে নামাজ হতে পারে মুমিনের শ্রেষ্ঠ আশ্রয়

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৯

ফাইল ছবি

জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত, দুঃখ-বেদনা, দুশ্চিন্তা ও হতাশা অনেক সময় মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। গভীর রাতে চারপাশের সব কোলাহল থেমে গেলে মনের আঙিনায় ভিড় করে নানা স্মৃতি ও বেদনাময় দিনের কথা। দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে তখন ঘুমও যেন হারিয়ে যায়।

এমন যন্ত্রণাকাতর সময়ে নামাজ হতে পারে মুমিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আশ্রয়। মহান আল্লাহর দরবারে সিজদায় অবনত হয়ে বান্দা তার মনের সব কথা, দুঃখ-কষ্ট ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরতে পারে। আল্লাহর সঙ্গে এই গোপন কথোপকথনের মাধ্যমে অন্তরে প্রশান্তি লাভের সুযোগ তৈরি হয়।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৩)

বিপদের সময়ে মানুষ যখন আশ্রয় ও অবলম্বন খুঁজে পায় না, তখন তার মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়। নামাজ মানুষকে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করতে শেখায় এবং তাঁর আশ্রয়ে ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘যখন কোনো বিষয় রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে চিন্তিত করত, তখন তিনি নামাজ পড়তেন।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস: ১৩১৯)

নামাজ আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করে। নামাজের মাধ্যমে মানুষ নিজের দুর্বলতা স্বীকার করে মহান আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করে। ফলে দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ ও অস্থিরতার সময়ে আল্লাহর ওপর নির্ভর করার সুযোগ তৈরি হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজকে প্রশান্তির মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতেন। তিনি বলতেন, ‘হে বেলাল! নামাজের জন্য ইকামত দাও। এর মাধ্যমে আমাদের প্রশান্তি দাও।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস: ৪৯৮৫) তিনি আরও বলেছেন, ‘নামাজেই আমার চোখের প্রশান্তি রাখা হয়েছে।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ৩৯৩৯)

নামাজের সিজদা বান্দার জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ মুহূর্ত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা সিজদায় আল্লাহর সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী হয়। সুতরাং তোমরা তাতে অধিক পরিমাণে দোয়া করো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮২) তাই রাতের নির্জনতায় নফল নামাজ আদায় করে সিজদায় গিয়ে নিজের দুঃখ-কষ্ট ও প্রয়োজনের কথা আল্লাহর কাছে তুলে ধরা মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

পবিত্র কোরআনে মানুষের স্বভাবগত অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে অতিশয় অস্থির চিত্তরূপে। যখন বিপদ তাকে স্পর্শ করে সে হয় হা-হুতাশকারী আর যখন কল্যাণ তাকে স্পর্শ করে সে হয় অতি কৃপণ, তবে নামাজ আদায়কারী ছাড়া।’ (সুরা মাআরিজ, আয়াত: ১৯-২২)

মানুষের কথা ও কাজে যখন মুমিনের অন্তরে গ্লানি ও ভার তৈরি হয়, তখন আল্লাহর স্মরণ ও সিজদার মাধ্যমে অন্তরকে প্রশান্ত করার পথও দেখানো হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি জানি, তারা যা বলে তাতে তোমার অন্তর সংকুচিত হয়; সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো এবং তুমি সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।’ (সুরা হিজর, আয়াত: ৯৭-৯৮)

তবে নামাজের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভের ক্ষেত্রে আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস, ভালোবাসা ও বিনয় গুরুত্বপূর্ণ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। এটা বিনীত ব্যক্তিরা ছাড়া আর সবার কাছে নিশ্চিতভাবে কঠিন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪৫)

জীবনের কঠিন সময়ে তাই হতাশায় ভেঙে না পড়ে নামাজ, দোয়া ও আল্লাহর ওপর ভরসার মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা মুমিনের জন্য প্রশান্তির পথ হতে পারে।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর