[email protected] শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে খেলোয়াড় গড়তে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ মে ২০২৬, ১১:১৬

ফাইল ছবি

তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আগামীকাল শনিবার থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ক্রীড়া পরিদপ্তরের মাধ্যমে এই আয়োজন বাস্তবায়ন করা হবে।

শনিবার সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা স্টেডিয়ামে অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই কার্যক্রমের সূচনা করা হবে।

আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করা, বাছাই করা এবং তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে বিকাশের সুযোগ করে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য।

এই মেগা আয়োজনে মোট ৮টি ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো—ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট। অংশগ্রহণকারীরা এসব খেলায় নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পাবে।

স্বল্প সময়ের রেজিস্ট্রেশন পর্বেই ব্যাপক সাড়া মিলেছে। গত ১২ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৯ জন কিশোর-কিশোরী নিবন্ধন করেছে। এর মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৬ জন কিশোর এবং ৪৪ হাজার ১৩৩ জন কিশোরী। সর্বোচ্চ আবেদন পড়েছে সিলেট জেলায়, যেখানে আবেদনকারীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৩২৪ জন। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম ও ঢাকা।

উপজেলা পর্যায়ে দল গঠন ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী ১৩ থেকে ২২ মে পর্যন্ত অঞ্চল ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানিয়েছেন, সুসংগঠিত কাঠামোর মাধ্যমে প্রতিযোগিতা পরিচালনা করা হবে। ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশন ওয়ার্ড থেকে শুরু হয়ে উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক ধাপ পেরিয়ে সেরা প্রতিভারা জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে।

তিনি আরও জানান, পুরো দেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে—ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। প্রতিটি পর্যায়ে প্রশাসনিক কমিটি গঠন করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

খেলার ধরন অনুযায়ী প্রতিযোগিতা পদ্ধতিও ভিন্ন হবে। ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনে নকআউট পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। দাবায় আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সুইস লিগ পদ্ধতি এবং অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টে প্রাথমিক বাছাই ও ফাইনালের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে।

অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে ভাতা, জার্সি ও সনদপত্র প্রদান করা হবে। জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত সেরা খেলোয়াড়দের জন্য থাকবে দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক প্রশিক্ষণ এবং বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ ক্রীড়া বৃত্তি চালু করা হবে এবং আঞ্চলিক বিকেএসপিগুলো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাছাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে তদারকির পাশাপাশি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক মেডিকেল টিম নিয়োজিত থাকবে বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার একটি বড় উদ্যোগ। সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

সূত্র: বাসস

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর