[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
১১ আষাঢ় ১৪৩৩

৯৮১ দিন পর ব্রাজিল দলে ফিরেই কাঁদলেন নেইমার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২৬, ০৯:৩১

সংগৃহিত ছবি

দীর্ঘ ৯৮১ দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামলেন নেইমার জুনিয়র। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন করেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ম্যাচ শেষে আবেগ সামলাতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

মায়ামিতে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে ব্রাজিল। কার্লো আনচেলত্তির দলের হয়ে জোড়া গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, আর একটি গোল করেন মাতেউস কুনিয়া।

তবে ম্যাচটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল নেইমারের প্রত্যাবর্তন। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে সর্বশেষ ব্রাজিলের হয়ে খেলেছিলেন তিনি। ওই ম্যাচেই বাঁ হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ও মেনিস্কাসে গুরুতর চোট পান। এরপর দীর্ঘ পুনর্বাসন ও একের পর এক শারীরিক সমস্যার কারণে প্রায় তিন বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হয় তাকে।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে মাতেউস কুনিয়ার পরিবর্তে মাঠে নামেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। তখন ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়ামজুড়ে করতালি ও উচ্ছ্বাসে তাকে স্বাগত জানান সমর্থকেরা। বলের প্রতিটি স্পর্শেই গ্যালারিতে উল্লাস ধ্বনি ওঠে। মাঠে নেমে কয়েকটি সেট-পিসও নেন তিনি।

এই ম্যাচের মাধ্যমে ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করলেন নেইমার। যদিও স্বল্প সময়ের উপস্থিতিতে ম্যাচে বড় কোনো প্রভাব রাখতে পারেননি, তবু তার ফেরাটাই ছিল দিনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা।

শেষ বাঁশি বাজার পর সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নেইমার। দীর্ঘ চোট, অনিশ্চয়তা ও সমালোচনার সময় পেরিয়ে জাতীয় দলে ফিরে আসার মুহূর্তটি তাকে চোখের জল ধরে রাখতে দেয়নি।

২০২৩ সালে চোট পাওয়ার সময় নেইমার খেলছিলেন সৌদি ক্লাব আল হিলালের হয়ে। গুরুতর ইনজুরির কারণে প্রায় ১৮ মাসে মাত্র সাতটি ম্যাচ খেলতে পেরেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্লাবটির সঙ্গে তার চুক্তি বাতিল হয়। এরপর শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে যান এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। সেখানে ৪৩ ম্যাচে ১৭ গোল ও ৮টি অ্যাসিস্ট করে আবারও জাতীয় দলে ফেরার দাবি জোরালো করেন তিনি, যদিও মাঝেমধ্যে চোটের সমস্যাও পিছু ছাড়েনি।

বিশ্বকাপ দলে নেইমারের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে শুরুতে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন অনেকেই। বিশেষ করে ভালো মৌসুম কাটানো জোয়াও পেদ্রোকে বাদ দিয়ে তাকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়। তবে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি শুরু থেকেই নেইমারের ওপর আস্থা রেখেছিলেন।

আনচেলত্তি বলেন, “পুরো বছরজুড়ে আমরা নেইমারকে পর্যবেক্ষণ করেছি। শেষ কয়েক মাসে সে নিয়মিত খেলেছে এবং শারীরিকভাবেও ভালো অবস্থায় ছিল। নেইমার এই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। তার প্রতিভা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। সে সমর্থক ও সতীর্থদের কাছে ভীষণ প্রিয়।”

গ্রুপসেরা হয়ে শেষ ৩২-এ ওঠা ব্রাজিল এখন ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের মুখোমুখি হবে। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে জাপান, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেন। তবে ব্রাজিল সমর্থকদের কাছে আপাতত সবচেয়ে বড় সুখবর একটাই—দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবারও সেলেসাওদের জার্সিতে দেখা গেছে নেইমারকে।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর