[email protected] শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘরজামাই দত্তক নিচ্ছে জাপানের ধনী পরিবারগুলো

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৫৩

সংগৃহিত ছবি

জাপানের সামাজিক ও ব্যবসায়িক ইতিহাসে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে দত্তক নেওয়ার একটি বিশেষ প্রথা। এর নাম ‘মুকোয়োশি’ (Mukoyōshi)। সহজ বাংলায় একে বলা যায় ‘দত্তক ঘরজামাই’।

তবে মুকোয়োশি শুধু শ্বশুরবাড়িতে জামাই হিসেবে বসবাসের বিষয় নয়। এটি জাপানের একটি আইনি দত্তকব্যবস্থা, যার মাধ্যমে কোনো পরিবারের মেয়ের স্বামীকে দত্তক নিয়ে তাকে পরিবারের আইনগত সন্তান ও ভবিষ্যৎ উত্তরসূরি করা হয়। বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক ব্যবসায় এই প্রথা ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

জাপানের দত্তকপ্রথার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, সেখানে শুধু শিশু নয়, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকেও আইনগতভাবে দত্তক নেওয়া যায়। সাধারণ দত্তক বা ‘অর্ডিনারি অ্যাডপশন’-এর মাধ্যমে দত্তক বাবা-মা ও দত্তক সন্তানের মধ্যে আইনগত পিতা-মাতার সম্পর্ক তৈরি হয়। দত্তক সন্তান সাধারণত দত্তক বাবা-মায়ের পদবি গ্রহণ করেন এবং তাদের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারী হওয়ার অধিকার পান।

গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো পরিবারে উপযুক্ত পুরুষ উত্তরসূরি না থাকলে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে দত্তক নেওয়া ঐতিহাসিকভাবে একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী পরিবারগুলো নিজেদের ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই প্রথার মাধ্যমে উত্তরসূরি নির্বাচন করত।

‘মুকো’ শব্দটি সাধারণভাবে মেয়ের স্বামী বা জামাইকে বোঝায়। আর ‘মুকোয়োশি’ হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে মেয়ের স্বামীকে তার শ্বশুর-শাশুড়ি আইনগতভাবে দত্তক নেন। ফলে তিনি শুধু পরিবারের জামাই থাকেন না, বরং ওই পরিবারের আইনগত সন্তান এবং সম্ভাব্য উত্তরসূরিতে পরিণত হন।

জাপানের দীর্ঘ সামাজিক ও ব্যবসায়িক ইতিহাসে এই প্রথা পরিবার ও ব্যবসার ধারাবাহিকতা রক্ষার একটি উল্লেখযোগ্য উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর