নাক ডাকা শুধু ভুক্তভোগীর নয়, তার আশপাশের মানুষের ঘুমেও বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটায়। রাতে তীব্র নাক ডাকার শব্দে পরিবারে অশান্তির ঘটনাও নতুন নয়। অনেকেই ওষুধ খেয়ে সমাধান খোঁজেন, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে নাক ডাকার সমস্যা রাতারাতি বন্ধ করা সম্ভব নয়।
তবে কিছু নিয়মিত ব্যায়াম শ্বাসনালীর বাধা কমিয়ে নাক ডাকা হ্রাস করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, নাক ডাকার পেছনে বিভিন্ন কারণ কাজ করে—অতিরিক্ত ওজন, থাইরয়েড সমস্যা, অ্যালার্জি, সাইনুসাইটিস, নাকের পলিপ, এমনকি ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’। ঘুমের সময় শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা তৈরি হলে নাক ডাকার প্রবণতা বাড়ে। এ ধরনের সমস্যায় বিশেষ কিছু ব্যায়াম সহায়ক হতে পারে।
নিচে নাক ডাকা কমাতে প্রস্তাবিত কয়েকটি ব্যায়াম—
১. জিভ স্লাইড
জিভের ডগা উপরের দাঁতের পিছনে রেখে ধীরে ধীরে মূর্ধা (প্যালেট) পর্যন্ত সরান। এরপর যতদূর সম্ভব পিছনে নিয়ে যান। এভাবে ৫–১০ বার করুন।
২. জিভের স্ট্রেচ
জিভ যতটা সম্ভব বাইরে বের করে থুতনির দিকে নামানোর চেষ্টা করুন। ১০–১৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন। প্রতিদিন ৫ বার অভ্যাস করুন।
৩. জিভের পুশ-আপ
জিভ উপরে তুলে মূর্ধায় স্পর্শ করুন এবং ৫–১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। ৫ বার পুনরাবৃত্তি করুন।
৪. নেক টাইটেনার
মাথা পেছনে হেলিয়ে সিলিংয়ের দিকে তাকান। জিভ উপরে তুলে মূর্ধায় স্পর্শ করুন এবং ঢোঁক গিলুন। ৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এতে গলা ও চোয়ালের পেশি শক্তিশালী হয় এবং শ্বাসজনিত বাধা কমে।
৫. জিভ ঘোরানো
মুখ বন্ধ রেখে জিভ একবার ঘড়ির কাঁটার দিকে এবং একবার বিপরীত দিকে ঘোরান। প্রতিটি দিকে ১০ বার করে করুন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যায়ামগুলো নিয়মিত করলে শ্বাসনালীর পেশি শক্তিশালী হয় এবং ধীরে ধীরে নাক ডাকার তীব্রতা কমে আসতে পারে। তবে সমস্যা গুরুতর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: