[email protected] সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

বাথরুমে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কেন বাড়ে—বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ২০:০০

ফাইল ছবি

চিকিৎসা পরিভাষায় ‘বাথরুম স্ট্রোক’ নামে কোনো নির্দিষ্ট রোগ না থাকলেও বাস্তবে দেখা যায়—স্ট্রোক বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের মতো মারাত্মক ঘটনা অনেক সময়ই ঘটে বাথরুমেই। বিশেষত বয়স্ক ব্যক্তি এবং উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা এই ঝুঁকির মুখে বেশি পড়েন। চিকিৎসকদের মতে, বাথরুমের পরিবেশ ও শারীরিক চাপের কারণে এই বিপদ তৈরি হয়।

ভালসালভা ম্যানুভার—সবচেয়ে বড় ঝুঁকি
মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দিলে শরীরে ‘ভালসালভা ম্যানুভার’ সৃষ্টি হয়। কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগলে এই চাপ আরও বেড়ে যায়। এতে হঠাৎ করে বুক ও পেটের ভেতরের চাপ বৃদ্ধি পায়, যা মস্তিষ্কের রক্তনালী ও হৃদযন্ত্রে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে দুর্বল রক্তনালী ছিঁড়ে গিয়ে হেমোরেজিক স্ট্রোক হতে পারে। পাশাপাশি হৃদস্পন্দনের অনিয়ম দেখা দিয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বাড়ে।

তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তনও বিপজ্জনক
গরম পানি দিয়ে গোসল করলে রক্তনালী প্রসারিত হয়ে রক্তচাপ কমে যেতে পারে। এতে মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অন্যদিকে গরম পরিবেশ থেকে সরাসরি ঠান্ডা পানিতে গেলে বা মাথায় ঠান্ডা পানি ঢাললে রক্তনালী দ্রুত সংকুচিত হয়, যা রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ডিহাইড্রেশন: সকালে শরীরে পানিশূন্যতা থাকলে মলত্যাগের সময় সমস্যা বাড়ে।

দীর্ঘ সময় বসে থাকা: এতে নিচের অংশে রক্ত সঞ্চালনে বাধা তৈরি হয়, যা ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে বেশি পানি পান করা এবং খাদ্যতালিকায় ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার রাখা।

মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া।

গোসলের সময় তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন এড়িয়ে চলা এবং ধীরে ধীরে পানি ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়া।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও অভ্যাস পরিবর্তন করলে বাথরুমে স্ট্রোক বা হৃদ্‌রোগজনিত বিপদের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর